১. স্মৃতি চিহ্ন
আমি মরে গেলে আমার স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে চাঁদটাকে আগলে নিও। শূন্যতা ছাড়া অনুভব অসম্ভব, আমার শূন্যতা বিষন্নতায় যেন তোমার ছায়া না হয়। আমি মানুষ অতি ক্ষুদ্র , চিন্তা শক্তি তার থেকেও প্রকট। কোন আকার যোগ করলে আমি বিয়োগ হবো তা আমার বোধগম্য বাহিরে। তাই তো ট্রেনশূন্য লাইনে হেঁটে বগি বিচ্ছেদ নিতান্তই এক গল্প।
শীতের পুরাতন জামাটা আজও শরীরে ধরছে, মাপে ছোট তবে শীতের তীব্রতা চামড়া ভেদ করে না যে। আমি কুয়াশার শিশিরে বৃষ্টি ভেজা সুখ আর ঝুম বৃষ্টিতে শিশিরের কনকনে ঠান্ডা এলোমেলো করে ফেলেছি。
তোমার শূন্যতা যেমন আমার ঠোঁটে নিকোটিনের প্রলেপ ফেলে দিয়েছে, গোরস্থান আমাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বাতাসের বেগ বিপরীত ঘুড়ি, হাফ প্যাট আর খালি গায়ে আলতো হাতে নাটাই টানছে বাচ্চাটি। বাতাসের স্রোত যেন ঘুড়ির বদলে বাচ্চাটিকে টেনে নিয়ে যাচ্চে উচু মাটির স্তুপের কেন্দ্র বরাবর। ঘুড়িটির লেজ নীল আর পুরোটা সাদা হবার কারণে বার বার আকাশের সাথে মিলিয়ে এক গোলকধাঁধা। কিছু সময়ের ব্যবধানে রাতের চাঁদকে বাচ্চাটি দিনের বেলায় প্রথম আবিষ্কার করলো। চেহারায় নিমিষেই রৌদ্দুরের মাঝে বৃষ্টি অনুভূতি। দূর থেকে তোমার হুংকার , ওই পিচ্চি সর ওইখান থেকে এক্ষনই। কাছে এসে পরম যত্নে চেপ্টা হয়ে যাওয়া ঘাস গুলো হাত বুলিয়ে তুমি ঠিক করে দিচ্ছো। যেন আমার বুকের পাজরের হাড় গুলো লেপ্টে গেছে।
—'দেহেন এই কড়া রইদ্দেও চাঁন্দের দেহা, আমার ঘুড্ডিটা চাঁন্দে টান মারসে, আমার কষ্ট লাগতাসে না। আপনে এরুম দেহা পাইসেন হের আগে? '
-- 'তুই আমার চোক্ষের সামন থেকে সর। ঘুড়ি উড়াইতে উড়াইতে মানুষের কবরে উইঠা যাস আবার আমারে চাঁদের গল্প শুনাস । ফাজিল পোলা!
—'আপনে যেইডারে কবর কইয়া হাত বুলাইলেন হেইডা আমি দেহি ট্যাকার ব্যাবসা। এক ভাই রুজ আইয়া আমার ঘুড্ডি চাঁন্দের দ্যাশে লওয়ার চেষ্টা করতো। আমি কইতাম ভাইজান চাঁন্দে ঘুড্ডি যাইবো না বাপে মাঞ্জা কিন্না দিবার চায় না, কিন্না দিবার চাইলেও শিয়ালের গু বিছরায়া পাউন যায় না। হেয় কইতো 'আমি চাঁন্দে ঘর করুম তহন তোর ঘুড্ডি টান দিয়া লইয়া যামু, হুদা মাঞ্জা লমু ঘুড্ডি হালায় দিমু তোর ধারে।'
তোমার চেচানো শব্দবোমা ফাটবার আগে সেই ঘুড়িটির মাঞ্জা যেন আসলেই কেও রেখে দিয়ে ঘুড়িটি আকাশ থেকে শূন্যে ফেলে দিয়েছে। চোখের বাস্তব দৃশ্ও কখনো অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করে।
চাঁদ হয়ে স্মৃতি চিহ্ন তোমার আমাদের অসীম আকাশের সীমান্ত কাটাতার উপড়ে ফেলে কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দেখছি তোমাকে। তুমি হেঁটে এগোলে আমিও তোমার ছায়া অনুসরণ করছি। বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যায় সকলের আড়ালে বারান্দার শিক ভেদ করে আলতো আলো হয়ে আমার দেওয়া হাজিরা যেন ইন্দ্রজাল নিছক কাল্পনিক মাত্র তোমার। আধারের আলোতে চোখ বুজে মাটিতে মিশে যাওয়া মোমবায়তির শেষ শুলতির লাল আলোতে আমি তোমার কপালে চুমু খেয়ে বিদায় নিচ্ছি কারণ কিছু দৃশ্য - দৃশ্যমান হয়েও যদি অবাস্তব রেখার নায়ক তবে নাট্যগল্প কারিগর মহাকাব্যে কালীহিন অমৃত মহানায়ক।